ধর্ম কি?
সম্পাদকঃ সৈয়দ শাহাদাত হুসাইন
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ ٱلدِّينَ عِندَ ٱللَّهِ ٱلْإِسْلَٰمُ
ইন্নাদ্দীনা ‘ইনদাল্লা-হিল ইছলা-ম
অর্থঃ নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট দ্বীন বা ধর্ম হচ্ছে ইসলাম বা আত্মসমর্পণ।
The Religion before Allah is Islam (surrender to Allah)
সূত্রঃ আল ক্বোরআন ৩:১৯
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱدْخُلُوا۟ فِى ٱلسِّلْمِ كَآفَّةً
ইয়া আইয়ুহাল লাযীনা আ-মানু উদখুলূ ফিছ ছিলমি কাফফাতাওঁ
অর্থঃ হে ঈমানদারগন! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলাম বা আত্মসমর্পণ কর
সুত্রঃ আল ক্বোরআন ২:২০৮
ইসলাম অর্থ আত্মসমর্পণ যার মুল শব্দ সিলমুন। আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করার জন্য আল্লাহ যুগে যুগে নবী রাসূল ও আউলিয়াদের খলিফা নিযুক্ত করেছেন। মহান আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَٰٓئِكَةِ إِنِّى جَاعِلٌ فِى ٱلْأَرْضِ خَلِيفَةً
ওয়া ইযকা-লা রাব্বুকা লিলমালইকাতি ইন্নী জা-‘ইলুন ফিল আরদিখালীফাতা
অর্থঃ আর পালনকর্তা ফেরেশতাদিগকে বললেনঃ আমি পৃথিবীতে আমার খলিফা বানাব,
সুত্রঃ আল ক্বোরআন ২:২৩০।
আল্লাহ তাআলা খলিফা নিযুক্ত করার কারণ বর্ণনা করেন
وَهُوَ ٱلَّذِى جَعَلَكُمْ خَلَٰٓئِفَ ٱلْأَرْضِ وَرَفَعَ بَعْضَكُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَٰتٍ لِّيَبْلُوَكُمْ فِى مَآ ءَاتَىٰكُمْ إِنَّ رَبَّكَ سَرِيعُ ٱلْعِقَابِ وَإِنَّهُۥ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌۢ
ওয়া হুওয়াল্লাযী জা‘আলাকুম খালাইফাল আরদিওয়ারাফা‘আ বা‘দাকুম ফাওকা বা‘দিন দারাজা-তিল লিইয়াবলুওয়াকুম ফী মাআ-তাকুম ইন্না রাব্বাকা ছারী‘উল ‘ইকা-বি ওয়া ইন্নাহূলাগাফূরুর রাহীম।
অর্থঃ তিনিই (আল্লাহ) তোমাদেরকে পৃথিবীতে খলিফা নিযুক্ত করেছেন এবং একে উপর অন্যের উপর মর্যাদা সমুন্নত করেছেন, যাতে তোমাদেরকে এ বিষয়ে (খেলাফতের বিষয়ে) পরীক্ষা করেন, যা তোমাদেরকে দিয়েছেন। আপনার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তি দাতা এবং তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু।
সুত্রঃ আল ক্বোরআন ৬:১৬৫।
মানুষের মধ্যে মর্যাদায় পার্থক্য করেছেন যাতে একে অন্যকে মান্য করে।। নবী রাসূল আওলিয়াগণই হচ্ছেন আল্লাহর খলিফা। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
يَٰدَاوُۥدُ إِنَّا جَعَلْنَٰكَ خَلِيفَةً فِى ٱلْأَرْضِ فَٱحْكُم بَيْنَ ٱلنَّاسِ بِٱلْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ ٱلْهَوَىٰ فَيُضِلَّكَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَضِلُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌۢ بِمَا نَسُوا۟ يَوْمَ ٱلْحِسَابِ
ইয়া- দা-ঊদু ইন্না-জা‘আলনা-কা খালীফাতান ফিল আরদি ফাহকুম বাইনান না-ছি বিলহাক্কি ওয়ালা- তাত্তাবি‘ইল হাওয়া- ফা ইউদিল্লাকা ‘আন ছাবীলিল্লা-হি; ইন্নাল্লাযীনা ইয়াদিল্লুনা ‘আন ছাবীলিল্লা-হি লাহুম ‘আযা-বুন শাদীদুম বিমা- নাছূ ইয়াওমাল হিছা-ব।
অর্থঃ হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি, অতএব, তুমি মানুষের মাঝে ন্যায়সঙ্গতভাবে রাজত্ব কর এবং খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না। তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি, এ কারণে যে, তারা হিসাবদিবসকে ভূলে যায়।
সুত্রঃ আল ক্বোরআন ৩৮:২৬।
আল্লাহ তাআলা তার খলিফাদের তাঁর গুণে গুণান্বিত করে অন্য লোকদের উপর বিশিষ্টতা দান করে
قَالَ يَٰمُوسَىٰٓ إِنِّى ٱصْطَفَيْتُكَ عَلَى ٱلنَّاسِ بِرِسَٰلَٰتِى وَبِكَلَٰمِى فَخُذْ مَآ ءَاتَيْتُكَ وَكُن مِّنَ ٱلشَّٰكِرِينَ
কা-লা ইয়া-মূছা ইন্নিস তাফাইতুকা ‘আলান না-ছি বিরিছা-লা-তী ওয়া বিকালা-মী ফাখুয মা আ-তাইতুকা ওয়া কুম মিনাশ শা-কিরীন।
অর্থঃ (পরওয়ারদেগার) বললেন, হে মূসা, আমি তোমাকে আমার বার্তা পাঠানোর এবং কথা বলার মাধ্যমে লোকদের উপর বিশিষ্টতা দান করেছি। সুতরাং যা কিছু আমি তোমাকে দান করলাম, গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞ থাক।
সুত্রঃ আল ক্বোরআন ৭:১৪৪।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا دَاوُۥدَ وَسُلَيْمَٰنَ عِلْمًا وَقَالَا ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِى فَضَّلَنَا عَلَىٰ كَثِيرٍ مِّنْ عِبَادِهِ ٱلْمُؤْمِنِينَ
ওয়া লাকাদ আ-তাইনা- দা-ঊদা ওয়া ছুলাইমা-না ‘ইলমান ওয়া কা-লাল হামদুলিল্লাহিল্লাযী ফাদ্দালানা- ‘আলা- কাছীরিম মিন ‘ইবা-দিহিল মু’মিনীন।
অর্থঃ আমি অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তাঁরা বলে ছিলেন, আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে তাঁর অনেক মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
সুত্রঃ আল ক্বোরআন ২৭:১৫।
আল্লাহ তাআলা তাঁর অনেক বান্দাকে নিজ গুণে গুণান্বিত করেছেন এবং ক্ষমতা প্রদান করেছেন। যেমনঃ
وَرَسُولًا إِلَىٰ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ أَنِّى قَدْ جِئْتُكُم بِـَٔايَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ أَنِّىٓ أَخْلُقُ لَكُم مِّنَ ٱلطِّينِ كَهَيْـَٔةِ ٱلطَّيْرِ فَأَنفُخُ فِيهِ فَيَكُونُ طَيْرًۢا بِإِذْنِ ٱللَّهِ وَأُبْرِئُ ٱلْأَكْمَهَ وَٱلْأَبْرَصَ وَأُحْىِ ٱلْمَوْتَىٰ بِإِذْنِ ٱللَّهِ وَأُنَبِّئُكُم بِمَا تَأْكُلُونَ وَمَا تَدَّخِرُونَ فِى بُيُوتِكُمْ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةً لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
ওয়া রাছূলান ইলা- বানীইছরাঈলা আন্নী কাদ জি’তুকুম বিআ-য়াতিম মির রাব্বিকুম আন্নী- আখলুকুলাকুম মিনাত তীনি কাহাইআতিত তাইরি ফাআনফুখু ফীহি ফাইয়াকূনু তাইরাম বিইযনিল্লা-হি ওয়াউবরিউল আকমাহা ওয়াল আবরাসা ওয়া উহয়িল মাওতা বিইযনিল্লা-হি ওয়া উনাব্বিউকুম বিমা-তা’কুলূনা ওয়ামা-তাদ্দাখিরূনা ফী বুইঊতিকুম ইন্না ফী যা-লিকা লা আ-য়াতাল্লাকুম ইন কুনতুম ম’ুমিনীন।।
অর্থঃ আর বণী ইসরাঈলদের জন্যে রসূল হিসেবে তাকে (ঈসা আঃ) মনোনীত করবেন। তিনি (ঈসা আঃ) বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে এসেছি নিদর্শনসমূহ নিয়ে। আমি (ঈসা আঃ) তোমাদের জন্য মাটির দ্বারা পাখীর আকৃতি তৈরী করে দেই। তারপর তাতে যখন ফুৎকার প্রদান করি, তখন তা উড়ন্ত পাখীতে পরিণত হয়ে যায় আল্লাহর হুকুমে। আর আমি (ঈসা আঃ) সুস্থ করে তুলি জন্মান্ধকে এবং শ্বেত কুষ্ঠ রোগীকে। আর আমি (ঈসা আঃ) জীবিত করে দেই মৃতকে আল্লাহর হুকুমে। আর আমি তোমাদেরকে বলে দেই যা তোমরা খেয়ে আস এবং যা তোমরা ঘরে রেখে আস। এতে প্রকৃষ্ট নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও,
সুত্রঃ আল ক্বোরআন ৩: ৪৯।
মহান আল্লাহ তাআলা নবী রাসূল ও ওলীদের নিকট ওহী বা প্রত্যাদেশ পাঠান যা তারা অনুসরণ করে।।
ٱتَّبِعْ مَآ أُوحِىَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَأَعْرِضْ عَنِ ٱلْمُشْرِكِينَ
ইত্তাবি‘ মা ঊহিয়া ইলাইকা মির রাব্বিকা লা ইলা-হা ইল্লা- হুওয়া ওয়া আ‘রিদ ‘আনিল মুশরিকীন।
অর্থঃ (হে নবী) আপনি সেই পথ অনুসরণ করুন, যা ওহীর মাধ্যমে পালনকর্তার পক্ষ থেকে আসে। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং মুশরিকদের তরফ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন।
সুত্রঃ আল ক্বোরআন ৬: ১০৬।
মহান আল্লাহ তাআলা ওলীদের নিকট এলহাম বা প্রত্যাদেশ পাঠান যা তারা অনুসরণ করে।।
وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّىٰهَا فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَىٰهَا
ওয়া নাফছিওঁ ওয়া মা-ছাওওয়া-হা-। ফা আলহামাহা- ফুজূরাহা- ওয়া তাকওয়া-হা-।
অর্থঃ শপথ প্রাণের এবং যিনি তার নাফসকে সুবিন্যস্ত করেছেন, অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্ম সম্পর্কে এলহাম প্রেরণ করেছেন,
সুত্রঃ আল ক্বোরআন ৯১:৭-৮।।
মুলত যারা ওহী বা এলহাম দ্বারা পথ প্রাপ্ত হয় তারাই একমাত্র আল্লাহর পথের আহ্বানকারী। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَآ إِلَى ٱللَّهِ وَعَمِلَ صَٰلِحًا وَقَالَ إِنَّنِى مِنَ ٱلْمُسْلِمِينَ
ওয়া মান আহছানু কাওলাম মিম্মান দা‘আ ইলাল্লা-হি ওয়া ‘আমিলা সা-লিহাওঁ ওয়া কা-লা ইন্নানী মিনাল মুছলিমীন।
অর্থঃ যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, “আমি একজন মুসলিম (আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ-কারী)”? সেই ব্যক্তির চেয়ে ভাল কথা আর কে বলে।
সুত্রঃ আল ক্বোরআন ৪১: ৩৩।
আল্লাহর খলিফাগন আল্লাহর ক্ষমতায় ক্ষমতাবান, আল্লাহর গুণে গুণান্বিত, আমানত ইনসাফ ও ঈমানের জিম্মাদার, এসব মুমিন মর্যাদার মানুষের অনুসরণ ও আনুগত্যই হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্য। তাদের নিকট সমর্পণই আল্লাহর নিকট সমর্পণ। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ ٱللَّهَ وَمَن تَوَلَّىٰ فَمَآ أَرْسَلْنَٰكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا
মাইঁ ইউতি‘ইর রাছূলা ফাকাদ আতা‘আল্লা-হা ওয়ামান তাওয়াল্লা-ফামা আরছালনা-কা ‘আলাইহিম হাফীজা-।
অর্থঃ যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে রাসূল), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।
সুত্রঃ আল ক্বোরআন ৪: ৮০।
এটাই হচ্ছে আল্লাহকে মান্য করার মুল সূত্র। যে আল্লাহর খলিফাদের মান্য করল সে আল্লাহকে মান্য করল। এজন্যই যারা রাসূলের হাতে বায়আত প্রহন করে তাদের হাতের উপর আল্লাহর হাত রয়েছে।
إِنَّ ٱلَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ ٱللَّهَ يَدُ ٱللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ
ইন্নাল্লাযীনা ইউবা-ই‘ঊনাকা ইন্নামা- ইউবা-ই ‘ঊনাল্লা-হা ইয়াদুল্লা-হি ফাওকা আইদীহিম
অর্থঃ যারা আপনার কাছে বায়আত গ্রহন করে, তারা তো আল্লাহর কাছে বায়আত গ্রহন করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছে।
সুত্রঃ আল ক্বোরআন ৪৮: ১০।
যারা বায়আত গ্রহন করে তারাই পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণকারী।। যারা রাসূলের নিকট সমর্পণ করে তারাই প্রকৃত ধার্মিক।
মুহাম্মদ সাঃ এর যুগে অনেক মানুষ এক আল্লাহতে বিশ্বাস করতেন। এখনো ঐসব অনুসারীরা বর্তমান। যারা আল্লাহ তাআলা কে মেনেছ কিন্তু মানুষরূপী তার খলিফাদের অস্বীকার করেছে তারা তখনও কাফের ছিল আর এখনও কাফের। শয়তানও এক আল্লাহর এবাদাতকারী ছিল কিন্তু আল্লাহর খলিফাকে না মানার কারণে সে শয়তানে পরিণত হয়েছে। এখন যারা মানবরূপী আল্লাহর খলিফাকে অস্বীকার করে তারা শয়তানের দাস।।
অনুমানের অনুসরণ ধর্ম নয়। অনুমান সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন
وَإِن تُطِعْ أَكْثَرَ مَن فِى ٱلْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ
অর্থঃ আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা (অধিকাংশ লোকেরা) শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে,
সূত্রঃ আল ক্বোরআন ৬:১১৬.।
এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে অধিকাংশ মানুষ ধর্মের নামে অলীক কল্পনার পূজা করে যা এবাদাত নয়। মহান আল্লাহ তার মনোনীত নবীকে শিখিয়ে দিচ্ছেনঃ
قُلْ هَلْ عِندَكُم مِّنْ عِلْمٍ فَتُخْرِجُوهُ لَنَآ إِن تَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَإِنْ أَنتُمْ إِلَّا تَخْرُصُونَ
অর্থঃ (হে নবী) আপনি বলুনঃ তোমাদের কাছে কি কোন প্রমাণ আছে যা আমাদেরকে দেখাতে পার (আল্লাহর কিতাব থেকে)। তোমরা শুধুমাত্র আন্দাজের অনুসরণ কর (মানুষের কথা ও বই) এবং তোমরা শুধু অনুমান করে কথা বল।
সূত্রঃ আল ক্বোরআন ৬:১৪৮.
আল্লাহ রাসূল পাঠিয়েছেন হেদায়াত ও সত্য ধর্ম নিয়ে, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
هُوَ ٱلَّذِىٓ أَرْسَلَ رَسُولَهُۥ بِٱلْهُدَىٰ وَدِينِ ٱلْحَقِّ لِيُظْهِرَهُۥ عَلَى ٱلدِّينِ كُلِّهِۦ وَلَوْ كَرِهَ ٱلْمُشْرِكُونَ
অর্থঃ তিনি তাঁর রসূলকে পথ নির্দেশ ও সত্যধর্ম নিয়ে প্রেরণ করেছেন, যাতে একে সবধর্মের উপর প্রবল করে দেন যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।
সূত্রঃ আল ক্বোরআন ৬১:৯.
পরিতাপের বিষয় সত্য বিষয়ে অনুমান কোন কাজে আসবে না। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَا لَهُم بِهِۦ مِنْ عِلْمٍ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَإِنَّ ٱلظَّنَّ لَا يُغْنِى مِنَ ٱلْحَقِّ شَيْـًٔا
অর্থঃ অথচ এ বিষয়ে (ধর্ম) তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমানের উপর চলে। অথচ সত্যের (ধর্মের) ব্যাপারে অনুমান মোটেই ফলপ্রসূ নয়,
সূত্রঃ আল ক্বোরআন ৫৩:২৮.
এরপরও যারা অলীক কল্পনাকে ধর্ম বানায় তারা অনুমানের পূজারী।। অনুমান বা ধারণার বশবর্তী হয়ে ধর্ম পালন করে ধার্মিক হওয়া যায় না বরং বাস্তবতা ও আধ্যাত্মিকতা মানুষকে স্রষ্টা পর্যন্ত পৌছানোর পথ দেখায়।।
অধর্ম ধর্ম হয় মিথ্যার বেড়াজালে অসত্য সত্য হয় অজ্ঞানীর অনুমানে।।
ধর্মের প্রয়োজন কেন?
বহুমুখী মানুষকে একমূখী করার জন্য আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে নবী রাসূল ওলী-আউলিয়াদের পাঠিয়ে থাকেন। মানুষরা যখন জ্ঞান অর্জনের জন্য এদিক ওদিক যায়, বিভিন্ন বই পত্র, কিতাবাদী অধ্যায়ন করে দিকভ্রান্ত হয়ে পথভ্রষ্ট হয়, আর এই পথভ্রষ্টতা রক্ষা করার জন্য একজন হাদী ঐসব মানুষকে একমূখী বা নিজমূখী করার মাধ্যমে স্রষ্টামুখী করে তোলে। যেই হাদী ওহী বা এলহাম প্রাপ্ত হয়ে মানুষকে হাদীমুখী করে তোলার ক্ষেত্রে নিজ জবানিতে যেই দিক নির্দেশনা দেয় সেই অমীয় বাণী হচ্ছে ঐশীবাণী। আর ঐশীবাণীর অনুসরণই ধর্ম। ঐশীবাণী আমাদেরকে একাগ্রচিত্ত বা একমুখী করে তোলে। ধর্মের প্রয়োজন হচ্ছে মানুষকে একমুখী করে একাগ্রচিত্ত করা। ধর্ম কোন যুক্তি নয় বরং ধর্ম হচ্ছে আধ্যাত্মিকতা তথা আয়াতে আনপাসী। নবী রাসূলগণ কোন বিজ্ঞানী ছিলেন না, তাঁরা ছিলেন আধ্যাত্মিক। আর আধ্যাত্মিকতা যুক্তি নয় বরং তা হচ্ছে বাতেন বা আয়াতে আনপাসী। যারা আয়াতুল্লাহ হয় তাদের অনুসরণই ধর্ম।
মারিফাত হচ্ছে বাস্তব ভিত্তিক ধর্ম জ্ঞান। যে কাজটিই করা হবে তা চাক্ষুষ বাস্তবতার আলোকে দেখে আইনুল ইয়াক্বীনের মাধ্যমে হাক্কুল ইয়াক্বীনে পৌঁছাবে। বাস্তবতার নিরিখে ধর্ম পালনই হচ্ছে ধর্ম আর এই ধর্ম পালনের জন্য একজন প্রজ্ঞাবান গুরুর কাছে পৌঁছাতে হবে। যিনি আপনাকে তাঁর প্রজ্ঞার মাধ্যমে পবিত্র ক্বোরআনের আনপাসী অর্থ বিশ্লেষণ করে ক্বোরআনের হাক্বীকত বুঝিয়ে তারপর আপনাকে সেই জ্ঞানের স্তরে পৌছয়ে দিবেন যা এলমে লাদুন্নী।। ধর্ম পালনে একজন গুরু আমাদেরকে স্রষ্টার পথ দেখাবেন এলমে লাদুন্নার আলোকে, এলমে লাদুন্না হচ্ছে নিকটবর্তী জ্ঞান যাকে প্রজ্ঞা বলা হয়। একজন প্রজ্ঞাবান গুরু যিনি প্রজ্ঞার মাধ্যমে পবিত্র ক্বোরআনের আনপাসী অর্থ বিশ্লেষণ করে ক্বোরআনের হাক্বীকত বুঝিয়ে তারপর আপনাকে সেই জ্ঞানের স্তরে পৌছয়ে দিবেন যা এলমে লাদুন্নী।।
আমালিয়াত ও কামালিয়াত ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ দুটি শাখা। আমালিয়াত হচ্ছে চেষ্টা সাধনার নাম। আর কামালিয়াত সিদ্ধ গুরুর সিনা হতে ভক্তের সিনায় স্থানান্তরিত এলমে লাদুন্না যা বই পুস্তক বা জিহ্বায় উচ্চারণের শক্তি কোন আদমের নাই। সিদ্ধ গুরুরা সব সময় ভক্তের সিনায় এলমে লাদুন্না স্থানান্তরিত করে যাচ্ছেন। পরশ পাথরের স্পর্শে যেমন পরশ পাথর তৈরী হয় তেমনি আল্লাহ ওয়ালার স্পর্শে নিজের মধ্যে আল্লাহর সিফাতের বিকাশ ঘটে।
পরিশেষে একটি আয়াত দিয়ে সমাপ্তি টানতে চাই। আল্লাহ তা’আলা বলেন:
أجِيبُوا دَاعِيَ اللهِ وَآمِنُوا بِهِ
অর্থঃ তোমরা আল্লাহর দিকে আহবানকারীর কথা মান্য কর এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর।
সূত্রঃ আল কোরআন।
আহবানকারী কারা? উত্তরঃ যারা আহলে যিকির।।
🩷 Love, Light & Blessing 🪷
Syed Shahadat Hussain
Spiritual Researcher and
philanthropist & social worker.